ইতিবাচক মানসিকতা অর্জনের কিছু কৌশল যা আপনাকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে। 

আপনি কি কখনো একটু চিন্তা করে দেখেছেন, কেন কিছু মানুষ তাদের জীবনে যাই ঘটুকনা কেন সবসময় তারা ভালো থাকেন?
জীবন তাদের ওপর যত বাধা-বিপত্তিই ঠেলে দিক না কেন তারা সবসময়ই শীর্ষ স্থান দখল করে রাখেন। তারা এই নীতিবাক্য অনুসরণ করে বাঁচেন, “জীবন যদি তোমাকে লেবু দেয়, তাহলে তুমি তা দিয়ে অর্গানিক লেবুর সরবত বানাও। ”

অথচ, এমন প্রচুর সংখ্যক লোক আছেন যাদের অনেক বড় বড় সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তারা কোনো পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে সক্ষম হন না। এবং ব্যর্থ হন।

কিন্তু সফল লোকরা শুধু ভাগ্যের জোরেই সফল হন না। এমন কিছু অর্জনযোগ্য দক্ষতা আছে যেগুলো আয়ত্ব করতে পারলে আপনিও সফল হবেন। এর একটি হলো, ইতিবাচক মানসিকতা। কর্মদক্ষতা এবং প্রতিভা শুধু আপনাকে বিশেষ একটি পর্যায় পর্যন্ত এগিয়ে নেবে। কিন্তু বাকীটা আপনার মানসিকতার ওপর নির্ভর করবে। ইতিবাচক মানসিকতাই কাউকে সবচেয়ে বেশি জোরালোভাবে সফলতার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
এখানে রইল এমন চারটি কৌশলের বিবরণ যেগুলো ব্যবহার করে আপনি আজই আপনার মানসিকতার পরিবর্তন করতে পারবেন। আর এর চুড়ান্ত পরিণতিতে আপনার জীবনটাই বদলে যাবে।

প্রথম ধাপ: সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং ব্যর্থতা কমিয়ে নিয়ে আসুনঃ
ব্যর্থতার কারণে নেতিবাচক আত্মসমালোচনা বেশি হারে সৃষ্টি হয়। আর ব্যর্থতার পেছনে দায়ী আরেকটি বড় কালপ্রিট হলো ভুল লক্ষ্য নির্ধারণ। এর ফলে আমরা অনেক সময় নিজেদেরকে সফল হওয়ারই সুযোগ দেই না।

লক্ষ্য নির্ধারণে ভুল করার মানে হলো ঠিক ভাবে লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যর্থতা। আমরা সাধারণত প্রায় সব সময়ই অস্পষ্টভাবে এবং বিশাল পরিসরে ও সুদুর প্রসারি লক্ষ্য নির্ধারণ করি। তার চেয়ে বরং এই মুহূর্তে আপনার পক্ষে যা করা সম্ভব সে অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট ভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।

উদাহরণত, কেউ যদি লক্ষ্য নির্ধারণ করেন, আমি ইংরেজি শিখতে চাই এবং এর মাধ্যমে আমি বেতন বাড়াতে বা আরেকটি ভালো চাকরি পেতে চাই। দুটো লক্ষ্যই অনেক বড়। এবং সেগুলো পুরণে দীর্ঘ সময়ের দরকার।
এর চেয়ে বরং আমি আজ থেকে প্রতিদিন এক ঘন্টা করে ইংরেজি শিখব। এভাবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই আমি ইংরেজিতে কথা বলা শিখব। এভাবে ভেঙ্গে ভেঙ্গে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।

 

আরও পড়ুনঃ মোটিভেশনাল ছোট গল্প যা জীবন পরির্বতন করতে পারে

দ্বিতীয় ধাপ: ইতিবাচক মনোভাব নষ্ট করে এমন বিষয়গুলো অপসারণ করুনঃ
সঠিকভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করার পর এবার আপনি সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রতিটি সুযোগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন সেটাই স্বাভাবিক। আর এটা করার একটি উপায় হলো অন্য কোনো লক্ষ্যের সঙ্গে তালগোল না পাকিয়ে ফেলা। আর এই কর্ম প্রবাহ অটুট রাখার জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যের ব্যাপারে সব সময়ই ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রাখতে হবে এবং ট্র্যাকচ্যুত হওয়া চলবে না। সময় অপচয়কারী তৎপরতায় লিপ্ত হওয়া যাবে না।

এক্ষেত্রে প্রধান কৌশলটি হলো, আপনি যা চান সে ব্যাপারে নিজের সঙ্গে কঠোর ভাবে সৎ হতে হবে।
প্রতিদিন, অন্তত একটি সময় অপচয়কারী কাজের প্রতি “না” বলুন। একবার “না” বলতে পারলে আপনি হঠাৎ করেই যে স্বাধীনতা এবং দায় অবসান অনুভব করবেন তা পরের বার কোনো কাজ করার দায়বদ্ধতার সঙ্গে তুলনা করে দেখুন।

 আপনার নিজের ভেতরের নেতিবাচক চিন্তা বন্ধ করুনঃ
একবার যখন আপনি জানবেন, আপনি সঠিক পথে আছেন, তখন নিজেকে নিয়ে গর্ব করাটাও আনন্দের।
যার ফলে আপনার ইতিবাচক মানসিকতাও নষ্ট হয়ে যেতে পারে সহজে। যারা জীবনে সফল হয়েছেন তাদের প্রায় সকলেই এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। আপনি হয়তো কোনো একটা কাজের অর্ধেক করে ব্যর্থতার ভয়ে তা ছেড়েও দিতে পারেন।

আর এখানেই শক্তিশালি ইতিবাচক মানসিকতার দরকার হয়। এর জন্য নিজের ভেতরের নেতিবাচক স্বরটিকে দূর করে ইতিবাচক স্বর প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নিজের ভেতরে এই কথাটি বলাতে হবে আমি যদি কাজটি অব্যাহত রাখি তাহলে আমি তা সুসম্পন্ন করতে পারব।

চতুর্থ ধাপ: দৃঢ়চিত্ত হনঃ
ইতিবাচক মানসিকতা কেউ জন্ম সূত্রেই পান না। এটি ভাগ্য বা বংশগত নয়। বরং এটি একটি অর্জন যোগ্য দক্ষতা। আপনি চাইলে চর্চার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসও বাড়াতে পারবেন।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

ইতিবাচক মানসিকতা অর্জনের কিছু কৌশল।

ইতিবাচক-মানসিকতা