টিম ওয়ার্কের ১৫টি কৌশল যা খুবই গুরুত্বপূর্ন

 

টিম ওয়ার্কের ১৫টি কৌশল যা খুবই গুরুত্বপূর্ন। টিম ওয়ার্ক কথাটি বা শব্দটি আমরা প্রায়ই বলে থাকি এবং শুনে থাকি। ভালো কিছু করতে হলে টিম ওয়ার্কের কোন বিকল্প নেই – এই কথাটিও আমরা বহুবার শোনেছি। এই কথা খুবই সত্যি যে ভালো টিম ওয়ার্ক করতে পারলে যে কোনও অসাধ্য সাধন করা যায়। অনেক কম দক্ষতা এবং যোগ্যতা নিয়েও বড় বড় প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেয়া যায় শুধুমাত্র ভালো টিম ওয়ার্ক এর কারনে। আজকের এই দুনিয়ায় যত বড় বড় কোম্পানী,ব্র্যান্ড,ভালো ভালো স্পোর্টস ক্লাব, শক্তিশালী সেনাবাহিনী – সবই আসলে টিম ওয়ার্ক এর অবদান।

সহজ কথায়, যখন কিছু মানুষ এক সাথে কোন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে, ব্যক্তিগত সকল স্বার্থ ত্যাগ করে একসাথে কাজ করে – তাকেই টিম ওয়ার্ক বা দলগত কাজ বলে। আদর্শ টিম ওয়ার্কের ক্ষেত্রে টিমের সদস্যরা নিজের স্বার্থের চেয়ে টিমের স্বার্থকে বেশি মূল্য দেন। ব্যক্তিগত ভাবে ক্রেডিট নেয়ার চেয়ে টিমের লক্ষ্য পূরণের জন্য কাজ করে থাকেন।

দলগত কাজ বা টিমওয়ার্কঃ
একসাথে দলবেধে বা টিম হয়ে কাজ করলে অনেক সমস্যার দ্রুত সমাধান বের করা যায়। এছাড়াও নানা ধরনের নতুন নতুন ভাবনা তৈরি হয় । যে কাজগুলাে সফলভাবে করলে তৈরি হবে কার্যকর ও কর্মদক্ষ একটি টিম বা দল। এই বিষয়ে কিছু কার্যকর কৌশল নিচে আলোচনা করা হলাে।

টিম ওয়ার্ক নিয়ে উক্তি
প্রাচীন চীনের সামরিক বিশেষজ্ঞ ও সেনাপতি সান জু তার বিখ্যাত গ্রন্থ। দ্যা আর্ট অব ‍ওয়্যার(The Art of War)-এ (খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ অব্দ)। যুদ্ধ বা যেকোনাে প্রতিযােগিতামূলক ক্ষেত্রে জয়ী হওয়ার কিছু অপ্রতিরােধ্য কৌশল তুলে ধরেছেন। এ গ্রন্থে টিম লিডারের উল্লেখযোগ্য ৫টি ভুল নিচে তুলে ধরা হলােঃ

১. না ভেবে কাজ শুরু করা
২. পর্যাপ্ত সাহস না থাকা
৩. অল্পতেই রেগে যাওয়া
৪. সবার কাছ থেকে সম্মান পাবার প্রত্যাশা করা
৫. দলের সদস্যদের নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা

 

আরও পড়ুনঃ ইতিবাচক মানসিকতা অর্জনের কিছু কৌশল

টিম ওয়ার্কের ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলঃ

০১. লক্ষ্য ঠিক করে কাজ বন্টন করা
সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য ঠিক করে টিম। মেম্বারদের কাজ বন্টন করুন। এর। মাধ্যমেই দ্রুত ও নির্ভুলভাবে কাজ সম্পন্ন করে সফলতার দিকে এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে।

০২. সময়ের সঠিক মূল্যায়ন করা
নিজেরসহ টিমের অন্য সকলের সময়ের দিকে খেয়াল রেখে কাজ করুন। এতে পুরাে টিমের কার্যক্ষমতা বেশি হবে। সবসময় চেষ্টা করুন কম সময়ে বেশি আউটপুট বের করতে।

 

০৩. সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা
টিমের সদস্যরা পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল হলে সকলের মাঝে দারুন সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে। যা সফলভাবে কার্য সম্পাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

০৪. আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা
দলের একজনের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থাকলে সবার মধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই মেম্বারদের। আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে পারলে কাজে গতি আসবে।

০৫. সকলের মধ্যে একাত্মবােধ গড়ে তােলা
যেকোনাে কাজে যখন টিমের সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা থাকে, তখন কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায় এবং ভালাে ফলাফলও পাওয়া যায়। তাই টিমকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে একাত্মবােধ গড়ে তােলার কোনাে বিকল্প নেই।

০৬. সবার সাথে সমান আচরণ করা
একজন যােগ্য ও ডেডিকেটেড টিম মেম্বার কখনই ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে প্রশ্রয় দেয় না। বরং কাজের দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছু বিচার করে থাকেন। তাই সফলভাবে কার্য সম্পাদনের স্বার্থে সবাইকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।

 

০৭. টিমের কাজের মধ্যে উদ্যম, সৃজনশীলতা ও নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা
বিভিন্ন ধরনের থারনা যখন একসাথে হয়ে নতুন কিছু তৈরি হয়, তখনই কাজে উদ্যমতা আসে। | কাজের প্রতি স্পৃহা অনেক বাড়ে যায়। এভাবে দলগতভাবে একসাথে কাজ করলে সৃজনশীলতার পরিবেশ তৈরি হয়।

০৮. নিজের কাজ নিজে নিজে করার চেষ্টা করা
একজন যােগ্য টিম মেম্বার হিসেবে নিজের সকল কাজ নিজে করার চেষ্টা করতে হবে। নিজের যোগ্যতা ও মেধার পুরােটা দিয়ে কাজ করার পর প্রয়ােজনে অন্যের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

 

০৯. অন্যেদের কাজে সাহায্য করা
নিজের কাজের পাশাপাশি প্রয়ােজনে অন্যদেরকে সাহায্য করার মানসিকতাও থাকতে হবে। যাতে কাজ আরও দ্রুত হয়। এখানে নিজেকে ব্যক্তি না ভেবে একটি ইউনিটের বা টিমের অংশ ভাবা।

১০. ভুল স্বীকার করার মানসিকতা থাকা
যােগ্য টিম মেম্বার হতে হলে অবশ্যই কোন ভুলকে স্বীকার করার মানসিকতা থাকতে হবে। ভুল স্বীকার করে তা শােধরানাের চেষ্টা করতে হবে। ভুল মানুষেরই হয়, এখানে লজ্জা পাবার কিছু নেই।

 

১১. সম্ভাব্য যেকোন ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা থাকা
কোনাে কাজ করতে গেলে সমস্যা আসতে পারে, সেগুলাে মেনে নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বিশেষ প্রয়ােজনে ঝুঁকি নেবার মানসিকতা থাকতে হবে।

 

১২. টিমের যেকোন সমস্যা ও দ্বন্দ্বের সমাধান করা
টিমের সদস্যদের মাঝে দ্বন্দ্ব বা মতের অমিল হতে পারে এটা অস্বাভাবিক নয়, তবে তা দ্রুত মিটিয়ে ফেলতে হবে। দলীয়ভাবে সকল সমস্যা নিয়ে আলােচনা করতে হবে এবং তা সমাধান করতে হবে নিজেদেরকেই।

 

১৩. টিমের সকল সদস্যের পরামর্শকে গুরুত্ব দেয়া
টিমের অন্য মেম্বারদের কাছ থেকে কাজ সম্পর্কে আইডিয়া ও পরামর্শ নিতে হবে এবং তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। টিমে বিভিন্ন চিন্তার মানুষ থাকায় তাদের ফিডব্যাক কাজকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

 

১৪. একজন দলনেতাকে মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকা
একজন যোগ্য টিম মেম্বার হিসাবে টিমের যেকোন একজনকে দলনেতা হিসাবে মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।

 

১৫. কোন সমালোচনা না করা
একসাথে কাজ করতে গেলে বিভিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে এতে করে কোন সমালোনা না করার মানসিকতা থাকবে হবে।

যেকোনাে কাজে সাফল্যের জন্য ভালাে টিমওয়ার্কে কোনাে বিকল্প নেই। এভাবে টিমওয়ার্ক সম্পর্কে ভালাে ধারণা রাখার পাশাপাশি, ভালাে একজন টিম মেম্বার হতে পারলেই সাফল্য হাতের মুঠোয় চলে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

টিম ওয়ার্কের ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল

টিম ওয়ার্কের ১৫টি কৌশল