নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা শুরু করার আগে যে ৫টি বিষয় অবশ্যই জানা প্রয়োজন কারন, এটি একটা মানুষের ক্যারিয়ার ।

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং ব্যবসা শুরু করার আগে আমাদের গুরুজনরা বিভিন্ন উপদেশ  দিয়েছেন। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা আগে শুরু করি, তারপরে চিন্তা করি, কিভাবে কি করব। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং হচ্ছে একটি দলগত ব্যবসা বা টিম ওর্য়াক। এটা আপনি কোন ভাবেই একা একা করতে পারবেন না। তাই জয়েন করার আগে আপনি অবশ্যই বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবেন, গবেষনা করবেন, তারপর ব্যাবসাটি সিরিয়াসলি করার সিদ্ধান্ত নিবেন।

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং একটি যোগউপযোগী ক্যারিয়ার যেখান আপনি আর্থিক স্বাধীনতা, সময়ের স্বাধীনতা, সম্মান, ভ্রমনের নিশ্চয়তা পেতে পারেন, জীবনের সকল প্রাপ্তি গুলো এই পেশা থেকে অর্জন করতে পারার দারুন সম্ভাবনা রয়েছে। এখন কেন আপনি জয়েন করার আগে বিষয়টিতে সময় দিবেনেএবং চিন্তা করবেন ? অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে আগ্রহ নিয়ে মানুষ এই পেশায় জয়েন করে তার কিছুদিন পর তাদের আর সেই আগ্রহ থাকে না ।

মূলত ৫টি কারনে এই আগ্রহ হারিয়ে যেতে পারে, তাই ব্যবসা শুরু করার আগে এই ৫টি বিষয় অবশ্যই জানা প্রয়োজন

১. কোম্পানীঃ

পৃথিবীতে অনেক ভাল ভাল কোম্পানি আছে । কিন্তু, একটি ভালো কোম্পানী কোনভাবেই আপনার সফলতার নিশ্চয়তা দিবে না। তবে, আপনার সাফল্যের সম্ভাবনাকে অনেক গুন বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি, একটি ভালো কোম্পানী নির্ধারন করতে পারলে আপনি দুশ্চিন্তা মুক্ত ও আত্মতৃপ্তি নিয়ে ব্যবসা করতে পারবেন। বর্তমানে পৃথিবীতে ১৫,০০০ (পনের হাজার) এর চেয়ে বেশী নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী রয়েছে এর মাঝখান থেকে ভালো কোম্পানী বেছে নেওয়া টাও অনেক কঠিন একটি ব্যাপার। ৯৫% নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী বন্ধ হয়ে যায় কোম্পানী শুরু হওয়ার প্রথম ৩-৫ বছরের মধ্যে। আবার যে কোম্পানীগুলো ১০ বছরেরও বেশী সময় ধরে ব্যবসা করছে তাদের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক ভাবে অনেক কম। তাই, আপনি আপনার মূন্যবান সময় ও অর্থ ঐ কোম্পানীতেই দিবেন যে কোম্পানীটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসা করবে। সেখান থেকে আপনি ও আপনার পরিচিতরা দীর্ঘদিন সুফল ভোগ করতে পারবেন।
একটি ভাল কোম্পানী পছন্দ করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই দেখবেনঃ

ক. কোম্পানী কত বছর ধরে ব্যবসা করছে ?
খ. কোম্পানীটি কে বা কারা পরিচালনা করছে ? তাদের ব্র্যাকগ্রাউন্ড কি? তাদের এই বিষযে পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে কিনা?
গ. কোম্পানীর বর্তমান অবস্থা কি ? বিগত কয়েক বছরের বিক্রয়গ্রাফ কেমন?
ঘ. কোম্পানীর ব্যবসা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গুলো কি? ট্রেনিং, সেমিনার, প্রোমশন ইত্যাদি নিয়মিত হয় কিনা?
ঙ. পরিচালনা পর্ষদ কত বড়? কারন, অনেক কোম্পানি বন্ধ হয় শুধুমাত্র পরিচাকদের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ থাকার কারনে ।

২. সিস্টেমঃ

আপনি কোন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীতে কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই ঐ কোম্পানীর সিস্টেমটি বা মার্কেটিং প্ল্যানটি ভালো করে দেখবেন। প্রয়োজন হলে ৪/৫ বার দেখবেন, অনেক সময় প্লান এর মধ্যে অনেক হিডেন শর্ত যুক্ত থাকে কিন্তু এগুলো প্লান শো করার সময় কোন প্রেজেন্টার বা ক্লোজার এইসব কথা বলে না, যেমনঃ রির্পাচেজ, মেইনটেনেন্স বা পদবী অর্জন করার জন্য বেশকিছু শর্ত থাকে মার্কেটিং প্ল্যান এর মধ্যে। তাই এগুলো ভালো করে জানার জন্য বুঝে বুঝে প্রশ্ন করতে হবে। প্রয়োজনে ২/৩ জনের কাছে একই প্লান বার বার দেখবেন। তাহলেই শর্তগুলো জানা যাবে। বর্তমানে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী গুলো বিভিন্ন মার্কেটিং প্ল্যানের উপর ভিত্তি করে ব্যবসা করছে। যেমনঃ

  • বাইনারী
  • ইউনি বাইনারী
  • ইউনিলেবেল
  • ম্যাটিক্স
  • ব্রেকওয়ে ইত্যাদি।

তাই এই পদ্ধতি গুলো নতুন একজন ব্যাক্তির জন্য এক বার প্লান দেখে ভালো ভাবে বুঝা অনেক কঠিন, তাই যিনি উপস্থাপন করেন তিনি এই জটিলতা এড়ানোর জন্য সহজভাবে প্লান শো করেন। ফলে গেষ্ট সহজেই কাজ করতে আগ্রহী হয়। আবার কিছুদিন কাজ করার পর বিভিন্ন নতুন নতুন শর্তগুলোর কারণে ব্যবসা ছাড়তেও বাধ্য হয়।

 

একটি ছোট্ট সুন্দর মোটিভেশনাল স্টরি বা গল্প

৩. পণ্য সমূহঃ

আপনি যে কোম্পানীতেই কাজ শুরু করবেন ঐ কোম্পানী কি কি পণ্য নিয়ে ব্যবসা করছে তা আপনাকে ভালভাবে জানতে হবে । সাধারণত নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীগুলো সতন্ত্র পণ্য নিয়ে ব্যবসা করে থাকে যা অন্য কোন জায়গায় কিনতে পাওয়া যায় না। শুধুমাত্র তাদের কাছ থেকেই পেতে হয়। আপনি যে পণ্যগুলো নিয়ে কাজ করবেন যদি এই গুলো মান-সম্মত ও কার্যকর না হয় তাহলে ব্যবসা করতে সমস্যা হবে। এইজন্য ভাল মানের পন্য বিক্রি করে এমন কোম্পানি খোঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানিগুলোর পণ্য নিয়ে অনেক গ্রাহকের অভিযোগ থাকে যে এরা বেশী দামে পণ্য বিক্রয় করে। কিন্তু, এই ব্যাপারটি আপনার জন্য বাধা হয়ে দাড়াতে পারবেনা যদি পণ্যগুলো স্বতন্ত্র, মানসম্মত ও কার্যকর হয়। সমাজের ১৫%-২০% মানুষের এই পণ্যগুলো ক্রয় করার সামর্থ্য থাকে। তাই আপনি তাদেরকেই এই পণ্যগুলোর অফার করবেন যাদের এইগুলো ক্রয় করার সামর্থ আছে।

এখানে ২ ধরনের লোক আপনার সাথে যোগ দিবেঃ
১. যাদের এই পণ্য গুলো নিয়মিত ক্রয় করার সামর্থ্য আছে বা যাদের এই পন্য গুলো প্রয়োজন।
২. যাদের এই পণ্যগুলো বিক্রয় করার দক্ষতা আছে এবং আয় করার ব্যপক চাহিদা আছে।

আসলে যারা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীগুলোতে কাজ করে তারা শুধু পণ্যের জন্যই কোম্পানীকে পছন্দ করেনা। ব্যক্তিগত ভাবে সবাই বেশী প্রাধান্য দেয় সিস্টেমকে। সিস্টেমটি যদি ভালো হয় এবং পণ্য গুলো যদি মান-সম্মত ও কার্যকর হয় তাহলে দামী পণ্যে কোন ব্যাপার না। এবার আপনি যে কোম্পানীতে কাজ করবেন ঐ কোম্পানীর পণ্য গুলো কি মান-সম্মত ও কার্যকর ? আপনি কি এই পণ্য গুলো নিয়ে ভালভাবে কাজ করতে পারবেন ? জয়েন করার আগেই একটু সময় নিয়ে ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে।

৪. টিমলিডারঃ

আপনাকে যিনি জয়েন করাবেন তিনি হয়ত নতুন, কিন্তু যে টিমে আপনি জয়েন করবেন সেই টিমের লিডাররা কেমন তা অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে। লিডারদের অতীত ইতিহাস ও বর্তমান কর্মকান্ড সম্পর্কে খোঁজখবর নিন। কারণ টিম লিডার যদি সৎ এবং ভাল মানসিকতার না হয় তাহলে সাময়িকভাবে সহযোগিতা করলেও কিছু দিন পর আর সহযোগিতা করবে না। ফলে আপনি জয়েন করার পর টিম লিডাদের কারনে আপনার স্পন্সর আপলাইন ও আপনি নিরুৎসাহিত হবেন। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং একটি দীর্ঘ মেয়াদী ব্যবসা, আমি এটাকে ম্যারাথন ব্যাবসাও বলি। এটা সারা জীবন করার মতো ব্যবসা, তাই যে টিমে জয়েন করবেন ঐ টিমের লিডারদের সর্ম্পকে জানবেন এবং টিমের পরিবেশ আপনার মনের মতো কিনা বা আপনি এডজাস্ট করতে পারবেন কিনা এগুলো যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিবেন। টিম লিডার ভাল হলে সফলতার জন্য খুব বেশী সময় লাগবে না। আর যদি কোন ভাবে খারাপ লিডার হয় তাহলে, ব্যাবসা করাটা খুব কষ্টকর হয়ে যাবে।

৫. স্পন্সরঃ

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানিতে জয়েন করার আগে আপনি যে বিষয়টি সবার আগে মাথায় রাখবেন সেটা হচ্ছে স্পন্সর আপলাইন বা যিনি আপনাকে ইনভাইট করেছে। উনার সম্পর্কে আপনার ধারনা কি রকম ? অনেক ক্ষেত্রে স্পন্সরকারী জয়েন করানোর সময় প্রচুর কমিটমেন্ট করে জয়েন করায়। পরে সে ঐ কমিটমেন্ট গুলো রক্ষা করে না, এর ফলে আপনার ব্যবসা করার আগ্রহ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই যার আহ্বানে আপনি ব্যবসা শুরু করবেন যদিও তাকে আপনি হয়ত আগে থেকেই চিনেন তারপরও একটু গবেষনা করবেন। অনেক স্পন্সরকারী আছেন যারা কয়েকজনকে জয়েন করিয়ে নিজেই ব্যবসা থেকে সরে যায়। যার সঙ্গে জয়েন করবেন তার অতীত ইতিহাস ভালো ভাবে অবশ্যই জানতে হবে কারন তার উপরও আপনার এই ব্যাবসার সফলতা নির্ভর করছে ।

অসাধারণ মানসিকতা সম্পন্ন ও নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ ১০০% সফলতার গুন সম্পন্ন ব্যক্তিও শুধু মাত্র স্পন্সর অপলাইনের কারনে ব্যর্থ হয়েছে এই রকম ইতিহাস রয়েছে। কারণ স্পন্সরকারী এসোসিয়েটদের জয়েন এর টাকা খরচ করে ফেলেছে বা নারী ঘটিত কোন কারনে তাকে কোম্পানি থেকে তাকে বের করে দিয়েছে এমনও হতে পারে। এই জন্য যেকেউ বললেই তার সাথে গিয়ে কাজ শুরু না করাই উত্তম ।

সবশেষে, উপরোক্ত ৫টি বিষয় যখন আপনার প্রত্যাশার সাথে মিলে যাবে তখন আপনি কাজটি শুরু করবেন। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যাবসাটিতে প্রচুর সময় ও পরিশ্রম করলেও আপনি মানসিক ভাবে সবসময় প্রফুল্য থাকবেন। ভাল পরিবেশ ও দলগত ভাবে কাজ করলে সহজেই বড় নেটওয়ার্ক তৈরী করতে পারবেন আশা করি। তাই জয়েন করার আগে সময় নিয়ে অবশ্যই এই ৫টি বিষয় ভালোভাবে অবগত হয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। আপনার স্বপ্ন পূরনের জায়গা হতে পারে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং  এই জন্য নেটওয়ার্ক মার্কেটিং জানা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা শুরু করার আগে যে ৫টি বিষয় অবশ্যই জানা প্রয়োজন

নেটওয়ার্ক-মার্কেটিং-ব্যবসা-শুরু-করার-আগে-যে-৫টি-বিষয়-অবশ্যই-জানা-প্রয়োজন